এ্যাথলেটিকস্ টপ নিউজ নির্বাচিত

ছোট খেলার বড় তারকা: ঝর্না আক্তার

শুরুটা সখের বশে হলে‌ও এখন খেলাই তার ধ্যান-জ্ঞান। কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলন দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়কও। বলছিলাম, বাংলাদেশ নারী থ্রোবল জাতীয় দলের অধিনায়ক ঝর্ণা আক্তারের কথা। ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ঝর্ণা অবশ্য ক্রিকেট খেলা দিয়ে ২০১০ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন। বেশিদিন তিনি ক্রিকেটে থাকেননি। নতুনের আবাহন তাকে টেনে নিয়ে যায় অন্যদিকে। ২০১৫ সাল থেকে খেলা শুরু করেন থ্রোবল। তারপর তো নিজ যোগ্যতায় তিনি এখন জাতীয় থ্রোবল দলের অধিনায়ক।

চার ভাই তিন বোনের মধ্যে ছিমছাম-ছোটখাটো গড়নের ঝর্ণা আক্তার সবার ছোটো। প্রথমে ভালোলাগা, তারপর ভালোবাসা- এমনি করেই খেলার প্রতি সখ্যতা বাড়ে ঝর্ণার। বাংলাদেশে প্রায় অপ্রচলিত এই খেলার প্রতি ঝর্ণাকে আকৃষ্ট করেন কোচ বিএম শহীদুজ্জামান। প্রতিদিন এই কোচের অধীনে চলতো অনুশীলন। সেই থেকে এখনও প্রতিনিয়ত অনুশীলন করে আসছেন তিনি। অসুস্থতাও তার অনুশীলন ব্যাহত করতে পারেনি কোনোদিন। পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় দিয়ে তিনি এখন বাংলাদেশ থ্রোবল দলের অধিনায়ক।

দেশে-বিদেশে র্ঝনা আক্তার দলকে পাইয়ে দিয়েছেন অনেক সাফল্যও। ২০১৯ সালে স্বাধীনতা কাপ এবং বিজয় দিবস র্টুনামেন্টে বাংলাদেশ আনসারকে চ্যাম্পিয়ন করান র্ঝনা আক্তার। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে থেকেও দেশের জন্য গৌরব বয়ে নিয়ে এসেছেন র্ঝনা। ২০১৯ সালে পাঞ্জাবের এক আর্ন্তজাতিক র্টুনামেন্টে অংশ নিয়েও কৃতিত্ব দেখায় র্ঝনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ থ্রোবল দল। আর একই বছর মালয়েশিয়ার মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুরে তো তৃতীয়স্থানই লাভ করে বাংলাদেশ থ্রোবল দল।

প্রথমে খেলাঘর দিয়ে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করা ঝর্ণা, জিবি স্পোর্টস ঘুরে এখন আনসার ও ভিডিপি দলের হয়ে খেলে থাকেন। বিচ থ্রো বলে খেলাঘরের হয়ে শিরোপা জেতার পর থেকেই তিনি যোগ দেন, আনসার ও ভিডিপি দলে। তারপর থেকে প্রচুর শিরোপা এনে দিয়েছেন আনসারকে। চারবার স্বাধীনতা কাপ, দুইবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ এবং একবার ক্লাব কাপে আনসারকে শিরোপা জেতান ঝর্ণা আক্তার শাওন।

শুধু ঘরোয়া আসরেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও তার সাফল্য কম নয়। ২০১৮ সালে ভারতের আলী দুয়ারায়, আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশ দলকে সেরা দলে পরিণত করেন। অবশ্য থ্রো বলের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০১৫ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে বাংলাদেশ থ্রোবল দলকে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই ব্রোঞ্জ পদক পাইয়ে দেন। ২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদে রানার্সআপ, ২০১৭ সালে ছত্তিশগড়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আবারও রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ থ্রোবল দল।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষেও নিজেকে খেলার মাঠেই জড়িয়ে রাখতে চান ঝর্ণা আক্তার। তাই খেলার পাশাপাশি রেফারিং কোর্সটাও করে ফেলেছেন তিনি। তবে এখনই খেলাকে গুডবাই বলতে চাননা তিনি। দেশকে আরো অনেককিছু দেবার আছে বলেই মনে করেন ঝর্ণা শাওন। নিজের অবসর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মনেকরি দেশকে এখনও অনেককিছু দেবার আছে। যখন বুঝতে পারবো, আমি আর নতুন কিছু পারছিনা কিংবা পারবো না, তখন আপনা-আপনিই সরে যাব। তবে যতদিন পারি খেলাটা চালিয়ে যেতে চাই।’

শুরুতেই তো বলেছিলাম, নতুনের আবাহন ঝর্ণা আক্তারকে নিয়ে এসেছে থ্রোবলে। সেই নতুনের সম্মোহনই তাকে নিয়ে গেছে রোকবলের কাছে। মেক্সিকান-আমেরিকান এই খেলাটিকে এদেশে‌ও জনপ্রিয় করার জন্য তিনি এবার কর্মকর্তার ভূমিকায় নেমেছেন। মেক্সিকোর আজটেক সভ্যতার লোকজন এই খেলাটি খেলতেন। অনেকটা ভলিবল আর হ্যান্ডবলের মিশেলে তৈরি রোকবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা আক্তার। ইতোমধ্যে খেলাটির জাতীয় প্রতিযোগিতা‌ও আয়োজন করা হয়েছে। কখনো খেলোয়াড়, কখনো আবার কর্মকর্তা হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনে চলছে ঝর্না আক্তারের পথচলা। ')}