কলাম/ফিচার টপ নিউজ নির্বাচিত সাঁতার

প্যারিস অলিম্পিকে চোখ জুনাইনার

বাংলাদেশ থেকে যে দুজন সাঁতারু টোকিও অলিম্পিকে খেলবেন, তাঁদের একজন লন্ডনপ্রবাসী জুনাইনা আহমেদ। অন্যজন আরিফুল ইসলাম। এবারের অলিম্পিকে দুজনই অংশ নেবেন ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ নিয়ে। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে আর বিশেষ আমন্ত্রণ নিয়ে খেলতে চান না জুনাইনা আহমেদ। ১৮ বছর বয়সী এই জলকন্যার রোখ চেপেছে, প্যারিস অলিম্পিকে সরাসরি সুযোগ করে নেবেন। আর তা যদি না পারেন তবে খেলবেনই না।

প্রথমবারের মতো খেলছেন অলিম্পিকে। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে ফোনে জুনাইনা বলেন, ‘সবকিছু ভালোই চলছে। লক্ষ্য ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক। এটা আমার স্বপ্নও বলতে পারেন। আমি চাই পরের অলিম্পিকে সরাসরি সুযোগ পেতে। না হলে খেলতে চাই না।’

সংকল্প থাকলেও জুনাইনার বাধাও আছে অনেক। সে প্রতিবন্ধকতাগুলো খুলেই বললেন তিনি, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ। আমার ইচ্ছা চিকিৎসক হবো। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে। পড়ালেখায় সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে সরাসরি অলিম্পিকে সুযোগ করে নিতে হলে বিশেষ ধরনের কোচিং, সুযোগ-সুবিধা, দিকনির্দেশনার ভীষণ প্রয়োজন। আমাকে পড়ালেখা-সাঁতারের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। ভীষণ কঠিন কাজ।’

জুনাইনার জন্ম-বেড়ে ওঠা লন্ডনে। তবু পিতৃভূমি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে তাঁর অলিম্পিকে অংশ নেওয়া। লাল-সবুজ পতাকাতলে অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার অনুভূতিটা জুনাইনা বললেন এভাবে, ‘অলিম্পিকে খেলতে যাওয়াটা একটা স্বপ্ন ছিল। বাংলাদেশের হয়ে অলিম্পিকে খেলছি, স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে। জাপানে যাব, ভীষণ রোমাঞ্চিত।’

দেশে-দেশের বাইরে যেকোনো প্রতিযোগিতায় সঙ্গী হয়ে মেয়ের পাশে থাকেন বাবা জুবায়ের আহমেদ। অলিম্পিকে সেটা সম্ভব নয়। প্রথমবারের মতো জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকার অভিজ্ঞতা হবে জুনাইনার। বিষয়টি মাথায় রেখে সেভাবেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। ২৫ জুলাই টোকিওর বিমানে চড়বেন। ৩০ জুলাই হবে জুনাইনার ইভেন্ট ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের বাছাইপর্ব।

জুনাইনাদের পরিবারে সাঁতারুর ছড়াছড়ি। তাঁর আরও তিন ভাইবোন সাঁতারে আছেন। লন্ডনের রমফোর্ড টাউন সুইমিং ক্লাবে সাঁতারের অনুশীলনে প্রতি সন্তানের পেছনে জুবায়ের খরচ করছেন মাসে ৪৫ থেকে ১০০ পাউন্ড (৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা)। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তির আওতায় কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন জুনাইনা।

একই সঙ্গে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ও সরাসরি অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি পাশাপাশি রেখে এগোলে মেয়ের ইচ্ছা কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় জুনাইনার বাবা জুবায়ের আহমেদ। তবু মেয়েকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন আকাশসম। জুবায়ের বললেন, ‘আমার সামর্থ্য থাকলে মাইকেল ফেল্পসকে আমার মেয়ের কোচ হওয়ার প্রস্তাব দিতাম। সন্তানদের পেছনে প্রচুর খরচ হচ্ছে, তবু স্বপ্ন একটাই—এরা যেন একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।’