কলাম/ফিচার ক্রিকেট টপ নিউজ নির্বাচিত

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘মেয়েরাও পারে’

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বিবর্তন এবং সাফল্য নিয়ে রচিত ইতিহাসভিত্তিক প্রথম গ্রন্থ ‘মেয়েরাও পারে’-র মোড়ক উন্মোচন এবং প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলানামার প্রকাশনায়, মনোয়ার আনিস খান মিনুর গ্রন্থনা এবং ক্রীড়া সাংবাদিক শামীম চৌধুরীর সম্পদনায় রোববার দুপুরে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ‌ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সভানেত্রী রাফিয়া আক্তার ডলি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাশেম ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।

প্রকাশনা উৎসবে বিসিবি’র সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি যখন বিসিবি’র সভাপতি ছিলাম, তখন মেয়েদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করার শুরুটা করেছিলাম। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের অর্জিত সাফল্য এখন গর্ব করার মতো। এশিয়ান ওম্যান্স টি-টোয়েন্টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটা অনেক বড় অর্জন। এশিয়ান গেমসেও নারীদের পদক রয়েছে। সামনে কমনওয়েলথ গেমসে নারী ক্রিকেট অর্ন্তভূক্ত থাকছে। আশা করি সেখানে আমরা পদকের জন্যই যাবো।’

বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এসিসির সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি দারুণ উদ্যোগ। এই বইটি ইংরেজিতে অনুদিত হলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নারীদের ক্রিকেট সম্পর্কে জানতে পারবে।’ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার ছিলাম। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এ রকম যে কোনো উদ্যোগের সঙ্গে থাকবে। যে কোনো সহায়তা আমরা পাশে থাকবো।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান জানান, ‘১৯৮৩ সালে আমরা পশ্চিমবাংলায় সফর গিয়েছিলাম। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ভারত টেস্ট চলছিল ইডেনে। আমাদের স্বপ্ন ছিল ইডেনে খেলা। ইডেনে গিয়ে আমরা জেনে গর্বিত হই, আমাদের আগে নারীরা ইডেনে খেলেছেন।’

এই গ্রন্থে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরায় মনোয়ার আনিস খান মিনু এবং শামীম চৌধুরীর প্রশংসা করেন আলোচকরা। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন খেলাধুলার উপর ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ রচনায় ক্রীড়া গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার বিবরণ, নেপথ্য ঘটনা, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিস্টদের লেখা এবং ঘটনাকালের ছবি স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। ম্যাট পেপারে চার রঙা এই বইটির মূল্য পাঁচশত টাকা। বইটি পাওয়া যাবে প্রকাশক বাংলানামার স্টলে (১২০/৫ পূর্ব রাজাবাজার, ঢাকা, ১২১৫)।