এ্যাথলেটিকস্ কলাম/ফিচার টপ নিউজ নির্বাচিত

ম্যারাথন একটা মেন্টাল চ্যালেঞ্জ: জেবা

প্রাইজমানির দিক থেকে কিংবা ট্যালেন্টের দিক থেকে হোক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথনটাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ছিলো। আর এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রথম হন হামিদা আক্তার জেবা। আর্মি স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিল পর্যন্ত ৪২ দশমিক একনয়পাঁচ কিলোমিটার ম্যারাথনে বাংলাদেশী নারী ক্যাটাগোরিতে প্রথম হয়ে জেবা গোল্ড মেডেল-সহ পাঁচ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কারও জয় করেন। সেই জেবার সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, তার আশা-আকাঙ্খা আর ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা।

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী হামিদা আক্তার জেবা। স্কুল-কলেজে অ্যাথলেটিক্সে দেখিছিলেন পারদর্শিতা। সেরা সাফল্যের সুনাম তার ছিলো তখন থেকেই। কলেজে অ্যাথলেটিক্সের পাশাপাশি হ্যান্ডবলও খেলেছেন। তাছাড়া কলেজ হ্যান্ডবলের জাতীয় প্রতিযোগিতায় তার কলেজ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলো। তবু অ্যাথলেটিক্সই তার ভরসা। অ্যাথলেটিক্সই জেবার ধ্যান-জ্ঞান। এ প্রসঙ্গে হামিদা আক্তার জেবা জানান, হাতের এক সাইডে পড়ালেখা আর অন্য সাইডে খেলাধুলাটাকে নিয়েছি আমি। এরমাঝে সবচেয়ে বেশি আমাকে সহায়তা করেতন শিক্ষকরা। নানা সময়ে নানা বিপর্যয় এসেছে জীবনে কিন্তু আমার শিক্ষকরা কখনো আমাকে ভেঙে পড়তে দেননি। ওনারা আমাকে সবসময় ভালোবেসেছেন সাপোর্ট দিয়েছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

গতানুগতিকতা থেকে বরাবরই ভিন্ন কিছু পছন্দ জেবার। নিজের সাথেই নিজেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। তাই স্বল্পপাল্লার দৌড় বাদ দিয়ে দূরপাল্লার দৌড় পছন্দ করেন বাংলাদেশের সেরা এই নারী ম্যারাথনিস্ট। ম্যারাথন চর্চা নিয়ে তার ধারণাটা‌ও বেশ পরিষ্কার। জেবার ভাষায়, ‘স্প্রিন্ট তো সবাই দিতে পারে কমবেশি। কিন্তু রাস্তায় একঘন্টা বা চারঘন্টা দৌড়ের উপর থাকা এটা কিন্তু ইজি কোনো ব্যাপার না। চাইলেই সবাই পারবেনা। এর জন্য আপনাকে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। একটা গোল সেট করতে হবে যে আমি এই দৌড়টা কমপ্লিটটা করবো। আমার কাছে মনে হয়েছে এগুলো আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। তাই আমি এই দৌড় করছি।’

ম্যারাথন কিংবা হাফ-ম্যারাথন থেকে কিছু না কিছু শিখেছেন জেবা। পেয়েছেন জীবন চলার রসদ‌ও। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি দূরপাল্লার দৌড় শেষ করেছেন তিনি। সেগুলোর প্রতিটি থেকেই অধীতবিদ্যা জেবাকে এই পর্যায়ে আসতে সহায়তা করেছে। তিনি জানান, ‘আমি এ পর্যন্ত অন্তত: ৪০টি দৌড়ে অংশগ্রহন করি। প্রত্যেকটিই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। এবং প্রত্যেকটি ইভেন্ট থেকেই আমি কিছু কিছু শিখতে পেরেছি। যেটা কিনা আমাকে আজকে এই পর্যায়ে আসতে সাহায্য করেছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক ম্যারথনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সময় তেমন পাননি জেবা। কারণ করোনাভাইরাস মহামারীরতে তো এক সময় এই প্রতিযোগিতাটিই বাতিল হয়ে যাওয়ার অবস্থায় ছিলো। তবু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই ইভেন্টটি যখন সত্যি সত্যিই শুরু হবে বলে ঘোষণা এলো তখন আগের অনুশীলনের করা বিষয়গুলোই চর্চা করতে থাকেন তিনি।

অবশ্য জেবার কাছে ম্যারাথনটা একটা মেন্টাল চ্যালেঞ্জ। আর আগে থেকেই তার মন বলছিলো যে এই চ্যালেঞ্জে তিনিই জয়ী হবেন। প্রথমে হাফ ম্যারাথন করার কথা থাকলেও এই বিশ্বাস থেকেই জেবা পরে ফুল ম্যারথনে না লেখান। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমি মেন্টালি প্রিপেয়ার ছিলাম যে আমি এবার পারবই। আমার এক্সপেরিয়েন্স আছে, মেন্টাল স্ট্রেন্থ আছে আমি ফুলেই ভাল করব। আমাদের ইভেন্ট শুরু হলো, আস্তে আস্তে আমি এগুলাম। যারা কম্পিটিটর ছিল সবাই এগিয়ে গেল। আমার কোনো তাড়া নেই। কারণ আগেই আমার হিসেব ছিল কোন কিলোমিটারে কতটুকু যাব। হয়কি একজনকে সামনে দেখতে পেলে স্পিড আসে যে ওকে বিট করলে আমি এগিয়ে যেতে পারব। আমি নিজেকে শুধু কুল ডাউন করার চেষ্টা করছিলাম আমি পারবো, আমাকে পারতেই হবে। আমাকে এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।’

ম্যারথন নিয়ে বেশ পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের এই নারী দৌড়বিদের। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং লাদাখ ম্যারাথনে অংশ নিতে চান তিনি। তাছাড়া এদেশের ম্যারাথনিস্টদের নিয়েও কাজ করার ইচ্ছের কথা জানান তিনি। বলেন, ‘আমার ইচ্ছে ছিল লাদাখ ম্যারাথনে যাবো। ওটা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। যেদিন ওটা ওপেন হবে আমি সেখানে জয়েন করবো। আমি চাইছি যে এই প্রফেশনেই আসতে যেহেতু আমি খেলাধুলা পছন্দ করি, আমি চাই আমাদের দেশে সেক্টরটা আরো বেশি উন্নত হোক। কারণ আমাদের দেশে এতো পটেনশিয়াল রানার আছে বা এতো পটেনশিয়াল অ্যাথলেট আছে যাদেরকে একটুখানি পলিশ করলে বা যাদেরকে ভালো একটা গাইডলাইন দিতে পারলে ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে। আমরা বাংলাদেশের হয়ে ভবিষ্যতে দেশের বাইরে যেয়ে আরো ভালো ভালো কম্পিটিশন করতে পারবো।’

এতো সাফল্যের পরও কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে বাংলাদেশের এই ম্যারাথন কন্যার মধ্যে। আর তা হলো বিচ্ছিন্নভাবে ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজন না করে যেনো একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে হয়। তাতে ম্যারাথন প্রতিযোগিতাগুলো আরো সুসংহত এবং গোছানো হবে।