এ্যাথলেটিকস্ টপ নিউজ নির্বাচিত

সীমান্তের দুঃখ কথা

অলিম্পিক গেমসে খেলার ছাড়পত্র পেতে যে ওয়াইল্ডকার্ড প্রয়োজেন সে ছাড়পত্রের সব শর্তই প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেন দেশসেরা ‌ওয়েটলিফটার মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মাদারীপুরের এই মেয়ে সাতটি কোয়ালিফাই রাউণ্ডের ছয়টিতে অংশ নিয়েছেন। তার এই মিশন শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। সবশেষ কোয়ালিফাইং রাউণ্ড ছিল এপ্রিলে উজবেকিস্তানে। করোনার কারণে তা স্থগিত হয়ে গেছে।

ভারোত্তোলনে অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ড পেতে সাতটি কোয়ালিফাইং রাউণ্ড খেলতে হয়। সে সাথে পারফরম্যান্সের উন্নতি থাকতে হয়। মাবিয়া জানান, তার পারফরম্যান্স ভালো। উন্নতি‌ও ছিলো সবখানেই। তাই তিনি আশাবাদী ছিলেন ওয়াইল্ড পাওয়ার ব্যাপারে। জানান, ‘ডিসেম্বরে কাতারে বাছাইপর্বে আমি স্ন্যাচে ৮০ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৬ কেজি তুলেছিলাম। এটা ছিল এস এ গেমস থেকে এক কেজি বেশি। আর ২০১৭ সালে প্রথম কোয়ালিফাইং রাউণ্ডে তুলেছিলাম স্ন্যাচে ৭৬ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৯৯ কেজি।’

তবে হাঁটুর ইনজুরি বেশ ভোগাচ্ছিল মাবিয়াকে। যে চোটটা পান সবশেষ এস এ গেমসের সময় নেপালে। তাই ডাক্তার তাকে ছয় মাসের বিশ্রামে থাকতে বলেন। জুনেই ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। আর অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার কথা ছিল জুলাইতে। তবে অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে যাওয়ায় ইনজুরি মুক্তির সময় নিয়ে আর টেনশন নেই। যদিও আগামী বছর অলিম্পিক গেমস পর্যন্ত ফিট থাকা যাবে কি না সেটা একটা প্রশ্ন। মাবিয়া জানান, লক ডাউনের কারণে খেলা বন্ধ থাকায় বিশ্রামটা ভালোই হয়েছে।

অবশ্য এরপরেই দিলেন তিনি হতাশার খবর। ‘১৭ মার্চ থেকে করোনার কারণে অনুশীলনের বাইরে। রড লোহা নিয়ে এক দিন অনুশীলন না করলে পরের দিন শতভাগ ওজন তোলা যায় না। কোচ পরের দিন ট্রেনিংয়ে এক কেজি ওজন কমিয়ে দেন। সেখানে আমরা প্রায় তিন মাস প্রশিক্ষণের বাইরে। এজন্য খুব হতাশ। সেই সাথে ভীষণ মন খারাপ অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে যাওয়ায়।

মাবিয়া জানান, এ বছর অলিম্পিক গেমসটা হয়ে গেলে মাথার ওপর থেকে চাপটা সরে যেত। পারফারম্যান্সটা আমার অনূকুলেই ছিল। কিন্তু গেমস পিছিয়ে যাওয়ায় অপেক্ষাটা আরো বেড়েছে।

এর আগে, ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিক গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাওয়ার পর‌ও ফেডারেশনের জটিলতার কারণে স্বপ্ন ভাঙে মাবিয়া আক্তার সীমান্তর। সেই দুঃখ ছাপিয়ে এবারে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশে এই স্বর্ণ কন্যার।